অটিজম

অটিজম শিশুদের আত্মঘাতী আচরণ

অটিজম মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২০ ০১:৫৪:২০

অটিজম শিশুরা যেসব আচরণ করে তার মধ্যে অন্যতম ভয়াবহ হল আত্মঘাতী আচরণ। মাথা ফাটানো থেকে শুরু করে কামড়ানো, হাত ঘষা বা আঁচড়ান ইত্যাদি এই ধরণের কাজগুলো শিশু বা শিশুর পিতা-মাতার জন্য খুবই ক্ষতিকারক হতে পারে। স্টেইনবার্গ বিহেভিওর সল্যুশন থেকে আমরা বুঝতে পারি শিশু করতে পারে এমন এই ধরণের আচরণ প্রত্যক্ষ করা কতটা কঠিন হতে পারে। এইজন্যই আমরা নানা ধরণের কৌশল খুঁজি কিভাবে এই আত্মঘাতী আচরণ কমানো যায় বা একদম বন্ধ করা যায়। আমরা বুঝতে পারি যে এই ধরণের আচরণের মাত্রা কমাতে এর কারণ এবং এর পেছনে কী আছে তা বের করতে হবে।
 
হতাশা
পিতা-মাতারা প্রায়ই শিশুর আত্মঘাতী আচরণ প্রদর্শনের কারণ হিসাবে হতাশাকে উল্লেখ করেন। সাধারণত এটা হয়ে থাকে শিশুর নিজেকে প্রকাশ করতে পারার অক্ষমতা অর্থাৎ যোগাযোগ স্থাপন করার অক্ষমতা থেকে। হয়ত তারা কোনকিছু বোঝাতে চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়, অথবা তারা বুঝতে পারে না তাদের থেরাপিস্ট বা পিতা-মাতা কী বলছে। কারণ যা-ই হোক, যোগাযোগে অক্ষমতা তাদেরকে হতাশাগ্রস্থ করে এবং এর থেকে আত্মঘাতী আচরণ দেখা দেয়।  
এর সমাধান হল শিশুকে যোগাযোগের প্রায়োগিক দক্ষতা শেখানো যেমন, ইশারা ভাষা/সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ, Picture Exchange Communication System (PECS) অথবা কমুনিকেশন বোর্ড ব্যাবহার করা। এটা মনে রাখা গুরুত্বপুর্ণ যে হতাশার মাত্রা কমাতে যে কোন একটি যোগাযোগের মাধ্যমে লেগে থাকতে হবে সব ধরণের প্রস্তুতি নিয়ে। এর অর্থ হল পিতা-মাতা, শুশ্রূষাকারী, থেরাপিস্ট এবং ডাক্তার সবাইকে শিশুর সাথে যোগাযোগ করার সময় একটি অভিন্ন পদ্ধতি ব্যাবহার করতে হবে।

কিছু কিছু ক্ষেত্রে দেখা যাবে শিশু বুঝতে পারে না তাকে কী বলা হচ্ছে, বুঝতে হবে যে হয়ত কোন শারীরিক সমস্যা রয়েছে (যেমন, মাথাব্যাথা, পেটের পীড়া) অথবা হয়ত তাদের কোন শারীরিক অক্ষমতা রয়েছে যেমন, শুনতে সমস্যা। এই ধরণের ক্ষেত্রে শিশুর ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।

এড়িয়ে চলা
কিছু কিছু শিশু অস্বস্তিকর সামাজিক পরিস্থিতি বা নির্দেশনার সম্মুখীন হলেও  আত্মঘাতী আচরণ করে। শিশুটি কোন বিশেষ ব্যাক্তির সাথে সাক্ষাৎ করার কথা থাকলে বা বিশেষ কোন সামাজিক কর্মকান্ডে অংশ নিতে হবে এমন নির্দিষ্ট করা থাকলে তার পূর্বে সে নিজকে আঘাত করা শুরু করে। যেটাই হোক, শিশুর এই ধরণের আচরণের লক্ষ্য হচ্ছে কোন ব্যক্তি বা কোন পরিস্থিতিকে এড়িয়ে চলা। উদাহরণস্বরূপ, হয়ত থেরাপিস্ট তাকে কিছু একটা করতে বলল (যেমন, খেলার মাঠ থেকে এখন চলে যাও)। সে যদি তা করতে না চায় তখন সে আত্মঘাতী আচরণ শুরু করবে। এর পরিণতি কী হল? যদি শিশু নিজেকে আঘাত করতে শুরু করে তাহলে একজন প্রশিক্ষিত প্রফেশনাল অবশ্যই তাকে বাধা দিয়ে নিরাপত্তাজনিত কারণে তাকে এমন আচরণ করা থেকে বিরত রাখবে। কিন্তু তারপরেই তাকে তার আগের অনুরোধ বাস্তবায়নে তাগিদ দিতে হবে যেন সে বুঝতে পারে আত্মঘাতী আচরণ করলেই একটা কাজ থেকে মুক্তি পাওয়া যায় না।

মনোযোগ আকর্ষণ
যেসব ক্ষেত্রে শিশুর প্রতি অন্যের মনোযোগ নেই বলে আত্মঘাতী আচরণ করছে বলে মনে হয় সেসব ক্ষেত্রে শিশু যখন আত্মঘাতী আচরণ করে না তখনও সে যেন ইতিবাচক মনোযোগ পায় সেটা নিশ্চিত করা খুব গুরুত্বপর্ণ। শিশুর নিরাপত্তার খাতিরে আমরা কোন ধরণের আত্মঘাতী আচরণকে অবহেলা করতে পারি না এবং এজন্য আপনার তাৎক্ষনিক মনোযোগ দেয়া জরুরি। যদি সম্ভব হয় যতটা নিরপেক্ষভাবে সম্ভব পরিস্থিতি শান্ত করা, যেমন, তাকে আত্মঘাতী আচরণ করা থেকে বিরত রাখা কিন্তু কিছু না বলা (রাগান্বিত হয়ে কিছু বলা)। আত্মঘাতী আচরণ যেন করতে না পারে সে জন্য ইতিবাচকভাবে তাকে অন্য কিছুতে নিয়োজিত রাখা (উদাহরনস্বরূপ কোন কাজে হাতকে ব্যস্ত রাখা যাতে সে হাত দিয়ে নিজেকে থাপ্পড় না মারতে পারে) হল একটি ভাল পন্থা। এতে নেতিবাচক কিছুতে মনোযোগ না দিয়ে সে ইতিবাচক বিষয়ে নিজেকে ফোকাস রাখে।

কখনো কখনো দেখা যায় সকলের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টার পরেও আত্মঘাতী আচরণ ঘটাতেই থাকে এবং এর কোন কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না। এসব ক্ষেত্রে পিতামাতা বা থেরাপিস্টের প্রথম কাজ হচ্ছে তাকে নিরাপদ রাখা। কিছু পরিবার এই ধরণের শিশুর জন্য প্রতিরোধমূলক ব্যাবস্থা রাখে যেমন মাথায় পাগড়ি পরিয়ে রাখে। পাশাপাশি তাদের উদ্দীপ্ত রাখতে বাবামায়েরা নানা ধরণের আয়োজন রাখে। আসলে বাবা-মা এবং থেরাপিস্টের সমন্বয়ে ক্ষেত্রবিশেষে পরীক্ষামূলক বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করে একটি উপযুক্ত পদ্ধতি প্রয়োগ করার চেস্টা অবলম্বন করে যেতে হবে।

অনেক পিতা-মাতা শিশুদের আত্মঘাতী আচরণে আতংকিত এবং হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েন।  শিশু এমন আচরণ করে তার কারণ জেনে সে মোতাবেক কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহন করলে এ ধরনের শিশুর উন্নতি ঘটানো সম্ভব।